hello@kiddierocks.com +88 01880882344 Unit # C & D, Level 2 Green Rowsanara Tower, 755 Satmasjid Road, Dhanmondi, Dhaka 1209, Bangladesh
Home About Services Events Notices Gallery Blog Contact
Autism and Early Intervention

আজ ২রা এপ্রিল, অটিজম সচেতনতা দিবস। এটি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি গ্রহণযোগ্যতা, সমর্থন এবং বোঝাপড়া প্রচারের জন্য জাতিসংঘ অনুমোদিত ১৮তম দিবস। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে প্রথম ঘোষণা করে, এবং ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো—অটিজম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, এবং সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তি (inclusion) বাড়ানো। অর্থাৎ এই দিনটি শুধু “awareness” নয়, বরং “acceptance” ও “inclusion” এর উপরও জোর দেয়।

এই বছরের অটিজম সচেতনতা দিবসের থিম হলো – Autism and Humanity – Every Life has Value অর্থাৎ অটিজম ও মানবতা – প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে। এই মূল প্রতিপাদ্যটি নিউরোডাইভার্স ব্যক্তিদের মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি এবং অনন্য অবদানের উপর জোর দেয়।

এই দিবসটির সাথে নীল রং টি জড়িয়ে আছে। এটি এসেছে Light It Up Blue নামে একটি বিশ্বব্যাপী প্রচারণা থেকে, যা ২০১০ সালে শুরু করে Autism Speaks নামের একটি সংস্থা। এই ক্যাম্পেইনে মানুষকে আহ্বান করা হয় - ২রা এপ্রিল দিনটিতে নীল রঙের পোশাক পরতে বা বিভিন্ন স্থাপনা নীল আলো দিয়ে আলোকিত করতে। কারণ নীল রঙকে শান্তি, সহমর্মিতা ও সমর্থনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এজন্য এই রঙের মাধ্যমে অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।
শুধু তাই নয়, পুরো এপ্রিল মাস জুড়েই সারা পৃথিবীতে অটিজম সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। সেই সচেতনতার অংশ হিসেবেই আমার নিচের এই লেখা। আশা করি অনেকেরই কাজে আসবে। আরো বিস্তারিত অথবা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলে পাঠক আমার ইনবক্স এ যোগাযোগ করতে পারেন।  

অটিজম এবং প্রারম্ভিক সহায়তামূলক পদক্ষেপ ( আর্লি ইন্টারভেনশন ) এবং কিছু বাস্তবতা :

অটিজম হলো একটি স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যা বা নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার যা শিশুর জন্মের প্রথম ৩ থেকে ৫ বছরের ( early developmental period ) মাঝে সাধারণত প্রকাশ পায়। এর ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। অটিজম এর প্রধান লক্ষণগুলোর মাঝে যোগাযোগের সমস্যা, সামাজিকতার সমস্যা এবং কিছু নির্দিষ্ট আচরণ বার বার করার প্রবণতা অন্যতম।  
অটিজম একটি জীবনভর অবস্থা। এটি একেবারে ভালো হয়না কিন্তু ম্যানেজেবল হয়। একেবারে ছোটবেলা থেকেই যদি বিভিন্ন ইন্টারভেনশন ( থেরাপি, স্পেশাল স্কুলিং ইত্যাদি ) দেয়া হয় তাহলে একটা শিশুর অবস্থাকে পরিবর্তন করা সম্ভব। কখনো কখনো অবস্থাভেদে শিশুর সমস্যাগুলো বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শমতো চললে সেগুলো একসময় ম্যানেজ করা যেতে পারে।
এখানে আর্লি ইন্টারভেনশন বা প্রারম্ভিক সহায়তামূলক পদক্ষেপ বলতে বুঝাচ্ছে শিশুর সমস্যা বা ভিন্নতা শুরুতেই চিহ্নিত করে, ছোট বয়স থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা, থেরাপি ও সহায়তা দেওয়া। Autism-এর ক্ষেত্রে আর্লি ইন্টারভেনশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর উন্নয়নে শুরুতেই সঠিক সহায়তা দিলে ফলাফল ভালো হয়। আর্লি ইন্টারভেনশনের সময়কাল একেবারে ছোট থেকে ৮ বছর পর্যন্ত ধরা হয়ে থাকে। তবে আস্তে আস্তে এই গতি স্লো হতে থাকে অর্থাৎ শিশু যত বড় হবে তার উন্নতির মাত্রা ধীর হবে। এজন্য একেবারে ছোট বয়সে অর্থাৎ ২ থেকে ৩ বছরের মাঝে যদি ইন্টারভেনশন দেয়া শুরু করা যায় তাহলে সবচেয়ে কার্যকর হয়। 
সাধারণত একটি শিশুর অটিজম এর লক্ষণগুলো ৩ বছরের মাঝেই প্রকাশ পায়। শিশুর স্বাভাবিকভাবেই ডেভেলপমেন্টাল মাইলস্টোন ধরে এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত বিকাশ হয়। এরপর দেখা যায়, যে কয়টা শব্দ সে বলতে শিখেছিল সেগুলো বলা বন্ধ করে দেয়, নিজের মতো থাকে, কেউ ডাকলে তাকায়না, কারো কথায় সাড়া দেয়না, সমবয়সী শিশুদের মাঝে গিয়ে মিশতে পারেনা। কখনো অতি চঞ্চলতা, অস্থিরতা প্রকাশ পায়। খেলনা দিয়ে অনুপযুক্ত খেলা করে। কারো কারো (টো ওয়াকিং) পা এর আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটার প্রবনতা থাকে। (কর্নার ভীষণ) কোনা করে একদিকে তাকিয়ে থাকে। আবেগ অনুভূতির ( ব্যাথা, ক্ষুধা, রাগ, হাসি) প্রকাশ থাকেনা। নিজের প্রয়োজন বুঝায়না। 
এরকম কিছু সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই শিশুকে কোনো চাইল্ড নিউরোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে দেখাতে হবে। অথবা সাইকোলজিস্ট এর কাছে যাবেন। উনারা শিশুর জন্য ইন্টারভেনশন প্ল্যান দিবেন। এই ইন্টারভেনশনের মাঝে থেরাপি, স্পেশাল স্কুলিং, ক্ষেত্র বিশেষে প্রি স্কুল, মেডিকেশন, ডায়েট প্ল্যান থাকে। শিশুর যা যা সেবা দরকার সেই সবই নিতে হবে একসাথে। আর্লি ইন্টারভেনশন একটি সমন্বিত সেবা / সার্ভিস। সমস্যার মাত্রা বুঝে কি কি সেবা প্রয়োজন সেটি বিশেষজ্ঞরা ঠিক করে দেন। শিশুর প্রয়োজন যদি একাধিক সেবা হয়ে থাকে তাহলে এখানে কখনোই শুধু একটি সেবা নিলে ফলপ্রসূ ফলাফল আসবেনা। প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা নিতে হবে। 
কিন্তু এই জায়গাটিতেই আমাদের দেশে অনেক ভুল ধারণা বা মিথ প্রচলিত আছে। অনেক বাবা মা তাদের শিশুর এই পরিবর্তিত অবস্থাটি বুঝতে চান না। মানতে পারেন না। আবার দেখা যায় দাদি নানীরা বলেন শিশুর বাবা / মা দেরিতে কথা শিখেছিল, বাচ্চাও তার বাবা/ মায়ের মতো হয়েছে। বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। অনেক সময় মা বুঝেন কিন্তু বাবা বুঝতে চান না। তাই শিশুটির আর্লি ইন্টারভেনশন এর যে সময় সেটি পার হয়ে যায়। আবার অনেক সময় পরিবারের মানুষের কাছে, আত্মীয়স্বজনদের কাছে বাবা মা নিজের সন্তানকে লুকিয়ে রাখেন। বাসা থেকে বের করেননা। বাচ্চার সমস্যা অন্যেরা জেনে ফেলবে। অথবা অতিচঞ্চল বাচ্চাকে বাইরে দেখে রাখা যায়না বলে বাসায় আটকে রাখা। 
সময়মতো শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা / থেরাপি, স্পেশাল স্কুলিং দেয়া হলে যারা মাইল্ড, মডারেট লেভেল এর অটিজম এ আক্রান্ত তারা মূলধারার স্কুলে যেতে পারে, সমাজের মূলধারায় মিশে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়। এজন্য সময় থাকতেই শিশুর এই অবস্থাকে মেনে নিতে চেষ্টা করতে হবে। তাতেই শিশুর ভালো নিহিত রয়েছে। এজন্যই সাড়া পৃথিবীতে অটিজমের জন্য আর্লি ইন্টারভেনশনের এত গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।  
আসুন সবাই মিলে সচেতন হই। আশেপাশের সবাইকে এই বিষয়গুলোতে সচেতন করি। বিকাশগত সমস্যা দেখলে পজিটিভ ভাবে নেই, এগিয়ে আসি সেই শিশুটি এবং তার পরিবারের প্রতি। আর বাবা মা - আপনারা লোকলজ্জা, সংকোচ ভুলে শুধু আপনার শিশুটির ভবিষ্যত ভেবে শুরুতেই সচেতন হন, বাস্তবতা মেনে শিশুর জন্য শুরুতেই সহায়তামূলক পদক্ষেপ নিন। সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। 
 

Share this article: